ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায় এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের উপায় কি
সূচীপত্রঃম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায় । ম্যালেরিয়া নিয়ে এখন প্রচুর রোগীর আবির্ভাব হচ্ছে সরকারি বেসরকারি মেডিকেল ও ক্লিনিক গুলিতে। বিগত বছরগুলিতে এই ম্যালেরিয়ার সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। কারণ আমাদের দেশে মশার উপদ্রপ বেশি বেড়ে গেছে যা একদম নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কষ্টসাধ্য। তাই আজকের এই আলোচনা হলো বিশেষ করে "ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায়"সম্পর্কে কথাবার্তা বলা এবং সুনির্দিষ্ট একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা যে ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায় গুলি কি কি।
তবে এ ছাড়াও আমরা আলোচনা করবো বায়ুবাহিত রোগ প্রতিরোধের উপায়, ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধের উপায়, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধের উপায় এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কেও আলোচনা থাকছে। আশা করি আপনারা বর্তমান সময়ের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের উপায় গুলি নিয়ে একটি ধারণা পাবেন যা আপনার জীবনের জন্যে খুবই উপকার বয়ে আনবে।
বায়ুবাহিত রোগ কেন হয় এং বায়ুবাহিত রোগ প্রতিরোধের উপায়
ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে এই আলচনায় অংশগ্রহন করলে ও পানিবাহিত এবং বায়ুবাহিত রোগ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে কথা বলার চেস্টা করবো । চলুন আমরা ধীরে ধীরে জেনে আসি যে বায়ুবাহিত রোগ কেন হয় এবং বায়ুবাহিত রোগ প্রতিরোগের উপায় গুলি কি ।
আমরা সবাই জানি বায়ুবাহিত রোগ সম্পর্কে । তবে আপনাদের সুবিদার্থে আরেকবার পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করি। যে রোগ বায়ুর মাধ্যমে ছড়ায় তাকে বিশেষ করে বায়ুবাহিত রোগ বলে এবং যা এক ধরনের সংক্রমক।
বাতাসে সংঘঠিত থাকা ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস এইগুলি মূলত বায়ুবাহিত রোগের সৃষ্টি করে থাকে, কারন এরা বাতাসে মিশে থাকে এবং নিঃশ্বাসের মাধ্যমে নাক দিয়ে এবং মুখ দিয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
এই জীবাণুগুলি যারা বায়ুবাহিত রোগে আক্রান্ত তাদের শরীর থেকে হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে সূক্ষ্ম জীবাণুগুলি নির্গত হয়ে বাতাসে ভেসে বেড়ায় এবং বাতাসের মাধ্যমে অন্য মানুষের মধ্যে প্রবেশ করে থাকে। তাছাড়াও দুর্গন্ধ, বাসি এবং পচাঁ খাবার থেকেও এই জীবাণুগুলি সৃষ্টি হয়ে এবং এই দূষিত বায়ুর মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
এর মাধ্যমে মানুষের বিভিন্ন রকম রোগের সৃষ্টি হয় মানব শরীরে। তার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলো সর্দি, কাশি, টিবি (টিউবারকুলোসিস বা যক্ষা), হাম, শ্বাসকষ্ট, জলবসন্ত, কারণে ভাইরাস এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ও হতে পারে।
বায়ুবাহিত রোগ প্রতিরোধের উপায় সমূহ
- বায়ুবাহিত রোগ প্রতিরোগের উপায় হিসেবে প্রথম কাজ হলো জনসমাগম স্থানে গেলে অবশ্যই ভালো মানের মাস্ক পরিধান করা দরকার।
- নিয়মিত ভালো সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করা জরুরি।
- আমরা যে ঘরে থাকি সেই ঘরের মধ্যে যেন খুবই সহজে আলো বাতাস চলাচল করতে পারে এমন করে ঘরকে উপযোগী করে তুলে। এক কথায় পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে।
- সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে অবশ্যই, কারণ বায়ুবাহিত রোগের সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে ভিড় এড়ানো উচিত।
- সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে এড়িয়ে চলা জরুরি।
- হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু বা হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা খুবই প্রয়োজন যেন অন্য কেউ সংক্রমিত হতে না পারে এবং সাথে ব্যবহৃত টিস্যু দ্রুত ফেলে দিতে হবে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার।
ম্যালেরিয়া রোগ কি এবং লক্ষণ কি? ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায়
ম্যালেরিয়া অত্যন্ত পুরাতন একটি রোগ এবং সবার জানা। তবে ম্যালেরিয়া একটি প্রাণঘাতী রোগ যা পরজীবীর মাধ্যমে হয়ে থাকে। এই ম্যালেরিয়া রোগ প্লাজমোডিয়াম নামক এক পরজীবীর মাধ্যমে হয় ।
এই পরজীবী সাধারণত সংক্রমিত স্ত্রী ' অ্যানোফিলিস ' মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং ম্যালেরিয়া ছড়িয়ে থাকে। এই পরজীবী যখন মানুষের রক্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তখন এটি লোহিত রক্ত কণিকাকে নষ্ট করে দেয় যার ফলে মানুষের শরীরের নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়।
ম্যালেরিয়ার রোগের লক্ষণ
- ম্যালেরিয়া রোগ হলেই সাথে সাথে বুঝা যায় না। তবে ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রায় ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে এমনকি ১৫ দিনের মাথায় এই রোগের লক্ষণগুলি সাধারণভাবে প্রকাশ পায়। তারমধ্যে যে লক্ষণগুলি বেশি দেখা যায় সেগুলি হলো
- কাঁপুনি দিয়ে খুবই অধিক মাত্রায় জ্বর
- বমি বমি ভাব সাথেই বমিও দেখা যায় অনেকক্ষেত্রে
- খুব ঘাম দেওয়া
- তীব্রভাবে মাথাব্যথা দেখা দেওয়া
- পেশিতেও খুবই ব্যথা সাথে ঘাড়েও ব্যথা
- ক্লন্তি ও দুর্বলতা
- ত্বক ফ্যাকাশে ভাব দেখা যায় এবং সাথে রক্তসল্পতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়া
তবে যদি সঠিভাবে এবং সময়মতো চিকিৎসা করা না যায়, তাহলে ম্যালেরিয়া মরণঘাতী রূপ নিতে পারে এবং এর সাথে কিডনি বিকল, শ্বাসকষ্ট এবং মস্তিষ্কে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায়
- রাতের বেলায় ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা খুবই জরুরি।
- যেকোন ভাবে মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করা যেমন আশেপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা।
- ঘরের ভেতরে এবং বাইরে অবশ্যই মশা মরার স্প্রে বা কীটনাশক ঔষধ ছিটিয়ে দেওয়া।
- মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে সারা শরীরে কাপড় দিয়ে ডেকে রাখা।
- ঘর ছাড়াও বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার রাখা জরুরি।
- মশার উপদ্রপ রয়েছে এবং ম্যালেরিয়া প্রবন এলাকা ভ্রমণের আগে অবশ্যই অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ গ্রহণ করা।
ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায় সমূহ ভালো ভাবে পালন করলে অবশ্যই ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধ করা খুবই সহজ এবং এটি আমাদের জন্যে প্ৰয়োজন।
ডেঙ্গু রোগ কি, লক্ষণ, কিভাবে ছড়ায় এবং ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধের উপায়
যদিও আমরা ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে কথা শুরু করেছিলাম।কিন্তু বর্তমানে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে ঢাকা থেকে শুরু করে এখন সারা দেশে ।
তবে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে জানার আগে আমরা জানার চেষ্টা করবো ডেঙ্গু রোগ কি এবং কিভাবে ছড়ায় কি কি সমস্যা হতে পারে। এর পরেই আমরা না হয় ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে বলার চেষ্টা করবো ।
ডেঙ্গু রোগ কি এবং কিভাবে ছড়ায়
ডেঙ্গু রোগ হচ্ছে ভাইরাস জনিত একটু সুপরিচিত রোগ বর্তমান সময়ের জন্যে। এই রোগ এডিস মশার কামড়ে ছড়িয়ে থাকে। তবে এই ডেঙ্গু রোগ বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের সময় এবং তার পরবর্তী সময়ে দেখা যায় বেশি।
ডেঙ্গু রোগ এডিস এজিপ্টাই ও এডিস আলবোপিকটাস মশার মাধ্যমে এই ভাইরাস মানুষের দেহে ছড়ায়। এই মশাগুলি পরিষ্কার জমানো পানিতে ডিম্ দিয়ে থাকে। তবে দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। এই এডিস মশাগুলি ভোর বেলা এবং সন্ধ্যার আগে কামড়ায় ।
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ
এই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হলে কিছু লক্ষণ থাকে যেমন , বমি বমি ভাব, তীব্র মাথা ব্যথা, উচ্চ্ জ্বর, গাঁড়ে, পেশিতে পছন্দ ব্যথা, ত্বকে লাল লাল দাগ এবং আরো নতুন নতুন লক্ষণ পরিলক্ষিত করা যায়। তবে জটিল অবস্থা হলে রক্তপাত ও দেখা যায়। এই অবস্থা হলে জীবন হানির কারণ ও হতে পারে ।
ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধের প্রতিরোধের উপায়
- ডেঙ্গু মশা বিশেষ করে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবৃদ্ধি বা ডিম্ পাড়ে তাই ঘরের যেকোন জায়গায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার করুন। যেমন ডাব খাওয়া খোসা, ফুলের টবে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত টায়ার এবং প্লাষ্টিকের বোতল ।
- অবশ্যই দিনের বেলায় ও রাতের বেলায় মশারি টাঙিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা এবং এটি অত্যন্ত প্রয়োজন ।
- ঘর বাড়ির আশেপাশে মশার ঔষধ ছিটিয়ে দেওয়া জরুরি এবং সাথে ধোঁয়া দেওয়া খুবই প্রয়োজন ।
- সাধারণ ভাবে সারা শরীর ঢেকে থাকে এমন পোশাক পরা খুবই জরুরি ।
- বাড়ির আশেপাশে ঝুপঝাড় পরিষ্কার করা এবং সাথে জলাবদ্বতা রোধ করা ।
- শিশুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই সবসময় মশারি ব্যবহার করা দরকার ।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও সতর্কতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজে সচেতন থাকলে এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব ।
পানিবাহিত রোগ কি, কেন হয় এবং পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধের উপায়
টাইটেলে ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে লিখা দেখলেও আমরা আসলে এই আর্টিকেলে বিভিন্ন পরিচিত “রোগ প্রতিরোধের উপায়” নিয়ে কথা বলছি । এই পর্যন্ত আমরা পানিবাহিত রোগ কি, কেন হয় এবং পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করবো।
পানিবাহিত রোগ কি, কেন হয়
পানিবাহিত রোগ আসলে দূষিত পানির মাধ্যমে হয়ে থাকে যা আমরা অনেকে সহজে জেনে থাকি। তবে কিভাবে পানিবাহিত রোগ হয় সে বিষয়ে অনেকে জানেনা। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী ও টক্সিন যেসব দূষিত পানির মধ্যে রয়েছে সে সব পানি যদি পান করার মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে তাহলে পানিবাহিত রোগ হয়ে থাকে।
কি কারণে হয়ে সে বিষয়ে একটি বলার চেষ্টা করি। যেমন, অপরিষ্কার বা দূষিত পানি পানের মাধ্যমে, অপরিছন্ন পরিবেশের কারণে এবং ভালো স্যানিটেশনের না থাকার কারণে এই পানিবাহিত রোগ হয়ে থাকে।
অপরিষ্কার পানি দিয়ে খাবার তৈরি করলে বা রাস্তার পাশে দোকান থেকে শরবত বা জুস্ পানের মাধ্যমে ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এই পানিবাহিত রোগ যেসব সমস্যা তৈরি করবে তার নমুনা হলো আমাশয়, কলেরা, ডায়রিয়া, টাইফয়েড এবং হেপাটাইটিস এ পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধের উপায়
- পরিষ্কার পানি পান করা এবং সাথে অবশ্যই ফুটিয়ে অথবা বিশুদ্ধকরন করে তারপর পানি পানি করা।
- খোলা পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন।
- খাবার প্রস্তুত বা তৈরী করার আগে এবং খাবার পরিবেশনের পূর্বে অবশ্যই হাত ধুয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
- শৌচাগার থেকে আসার পরে ভালো করে সাবান বা হ্যান্ডসেনিটাইজেশন করা বাঞ্চনীয়।
অসংক্রামক রোগ কি এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের উপায়
এতক্ষন আমরা জেনেছি ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায়, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধের উপায়, ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধের উপায় এবং বায়ুবাহিত রোগ কেন হয় এং বায়ুবাহিত রোগ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে। একথায় জেনেছি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে। এবার জানার চেষ্টা করবো অসংক্রামক রোগ কি এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে।
অসংক্রামক রোগ হলো যে রোগগুলি সাধারণত অন্যকারো থেকে সংক্রমন হয় না। এটি বিভিন্ন কারণে আমাদের দেহে আক্রমণ করে, যেমন খাদ্যাভ্যাস থেকে, বংশগত ভাবে এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনে হয়ে থাকে। এই অসংক্রামক রোগ গুলি হলো ডায়বেটিস, হৃদরোগ, ক্যানসার এবং উচ্চরক্তচাপ।
অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের উপায়
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাসকে সুন্দরভাবে গঠন করতে পারলে অসংক্রামক রোগ থেকে অনেকাংশে মুক্তি পাওয়া যায়। আর কিছু বিষয় রয়েছে বংশগত ভাবে হয়ে থাকে। তবে নিজেকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারলে বা সংযমের মাধ্যমে জীবন পরিচালিত করলে সংক্রামক রোগ বংশতভাবে রক্ষা পাওয়া যায়। নিচে লিস্ট আকারে দেওয়া হলো অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের উপায় সমূহ।
সঠিভাবে খাদ্যাভ্যাস
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রচুর শাকসবজি এবং ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এর সাথে চর্বি ও তৈলাক্তজাতীয় খাবার পরিমিত বা কম খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। বেশি লবন এবং চিনি খাওয়ার অভ্যাস কমাতে হবে এবং এর সাথে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য একদম এড়িয়ে চলতে হবে।
নিয়মিত শরীরচর্চা করা
প্রতিদিন শরীরের প্রতি লক্ষ্য রেখে প্রতিদিন ৩০ মিনিট পর্যন্ত হাঁটার বা যোগব্যায়াম করার অভ্যাস অবশ্যই অবশ্যই করতে হবে। তারসাথে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখার প্রতি ভালো করে নজর দিতে হবে।
নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে বিরত থাকা
বিশেষ করে যারা বংশগত ভাবে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত বা হওয়ার প্রবণতা রয়েছে তারা ধূমপান ও মদ্যপান থেকে সদা বিরত থাকতে হবে। কারণ ধূমপান ও মদ্যপান ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এলকোহল জাতীয় খাবার থেকে ও বিরত থাকতে হবে।
মানসিক ভাবে সুস্থ থাকা
গবেষণায় দেখা গেছে যারা মানসিক ভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ তারা বেশিরভাগ হৃদরোগে ও ডায়বেটিসে আক্রান্ত হয়। তাই নিয়মিত চিন্তা মুক্ত রাখতে এবং মানসিক ভাবে শক্ত থাকার ক্ষেত্রে মেডিটেশন এবং যোগব্যায়াম সাথে রিল্যাক্স রাখার জন্যে প্রাণায়ামের অভ্যাস করতে হবে। সঠিকভাবে ঘুমের নিশ্চিত করতে হবে এবং সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করার অভ্যাস গঠন করতে হবে।
পর্যাপ্ত পানি পান
দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করতে হবে যাতে করে শরীর কোনমতে ডিজাইড্রেশন না হয়। এতে করে শরীরের অনেক সমস্যা দূর করা সম্ভব।
পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনের অভ্যাস করা
নিজেকে সবসময় পরিষ্কার রাখার অভ্যাস করতে হবে এবং নিজে যে জায়গায় থাকি সে পরিবেশকে সবসময় পরিষ্কার রাখার অভ্যাস করার মাধ্যমে নিজেকে অসংক্রামক রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে লেখকের শেষ মন্তব্য
ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আমরা টাইটেল দিয়ে শুরু করলেও আমরা এই আর্টিকেলে বিভিন্ন রকম রোগ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে কথা বলেছি। তবে আশা করি এই আর্টিকেলে নিয়ে আর কারো কোন অভিযোগ থাকার কথা নই। অন্তত বেশি কিছু না জানলেও রোগ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে ধারণা হবে। তবে যারা জানেন তারা হয়ত আর্টিকেলটি এড়িয়ে যেতে পারেন। ভালো থাকবেন নিজের প্রতি খেয়াল রাখবেন এবং নিজেকে সুস্থ রাখবেন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url