শারীরিক সক্ষমতার উপাদান কাকে বলে এবং কিভাবে শারীরিক সক্ষমতা বা ফিটনেস ধরে রাখা যায়

শারীরিক সক্ষমতার উপাদান কাকে বলে


সূচীপত্রঃশারীরিক সক্ষমতার উপাদান কাকে বলে । শারীরিক সক্ষমতা প্রতিটা মানবের খুবই প্রয়োজনীয় একটি বিষয় যা কার্যক্ষমতা থেকে শুরু করে দক্ষতা ও সহনশীলতা পর্যন্ত নির্দেশ করে থাকে। আজকের টপিক শরীরিক সক্ষমতার উপাদান কাকে বলে। 


আমরা শুধু শরীরিক সক্ষমতা নিয়েই কথা বলবো না এর সাথে শারীরিক সক্ষমতার উপাদান, শারীরিক সক্ষমতা বলতে কি বুঝ, কিভাবে শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখা যায়, শারীরিক ফিটনেস এর উপকারিতা এবং শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখতে করণীয় কি এইসব বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করবো। আপনারা ও সাথে থাকবেন। 

শারীরিক সক্ষমতা বলতে কি বুঝ


শারীরিক সক্ষমতার উপাদান কাকে বলে এই বিষয় নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হলেও আমরা আগে শরীরিক সক্ষমতা বলতে কি বুঝায় সেই সম্পর্কে একটু জেনে আসি। 


শারীরিক সক্ষমতা এমন একটি পর্যায় যেটি একজন মানুষের প্রতিদিনের কার্যক্রম কে সহজে ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করার ক্ষমতাকে নির্দেশ করে।  শারীরিক সক্ষমতা মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুসমন্বিত কার্যকারিতা এবং সার্বিক ভাবে সুস্বাস্থ্যের প্রতীক।

শারীরিক সক্ষমতার উপাদান


আমাদের জার্নিটা শুরু হয়েছিল, শারীরিক সক্ষমতার উপাদান কাকে বলে

এই নিয়ে। তবে আমরা শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে আরো গভীরে প্রবেশ করার পূর্বে জানার চেষ্টা করবো শারীরিক সক্ষমতার উপাদান গুলি কি কি। চলুন তাহলে জেনে আসা যাক। 


কথায় আছে স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে সব কিছু যেন অসার হয়ে যায়। একটি সুস্থ শরীর মানুষের জীবনের বেঁচে থাকার আশার সঞ্চার করে থাকে।


একটি মানব দেহের সক্ষমতার জন্যে প্ৰয়োজন হচ্ছে শক্তি এবং সহনশীলতা ও এর সাথে আরো বিভিন্ন উপাদান। যেমন শক্তি মানুষের প্রতিদিনের কাজকর্মের গতি এবং শারীরিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শারীরিক সক্ষমতার প্রধান উপাদানগুলো হলো: শক্তি, সহনশীলতা, গতিশীলতা, নমনীয়তা, এবং গতি।


শক্তি

শক্তি হলো শারীরিক শক্তিকে বুজানো হয়েছে , এটি একজন মানুষের মাংসপেশি ব্যবহার করে শারীরিক কাজ সম্পন্ন করতে সহায়তা করে। তবে এই শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য প্রতিদিন ব্যায়াম এবং পুষ্টিকর খাদ্য খুবই জরুরি। 


সহনশীলতা

সহনশীলতা মানে হলো শরীরের দীর্ঘসময় পর্যন্ত শারীরিক পরিশ্রম সহ্য করার ক্ষমতাকে বলা হয়েছে । এই সহনশীলতা হৃদপিণ্ড ও শ্বাসযন্ত্রের কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করে। তবে এই সহনশীলতা বৃদ্ধি করার জন্যে বিশেষ করে, দৌড়ানো বা সাঁতার কাটার মাধ্যমে বৃদ্ধি করা যায়।


গতিশীলতা

গতিশীলতা হচ্ছে মানুষের শরীরের গতিবিধি এবং মানব দেহের অংশগুলোকে একসাথে কাজ করানোর ক্ষমতা। এটি শরীরের সর্বোচ্চ কার্যক্ষমতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 


নমনীয়তা ও গতি

উভয়ই শারীরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা শারীরিক কর্মক্ষমতাকে উন্নত করতে সহায়ক ।

কিভাবে শারীরিক সক্ষমতা বা ফিটনেস ধরে রাখা যায়


শারীরিক সক্ষমতা বা ফিটনেস ধরে রাখা খুবই প্রয়োজন আমাদের মানব শরীরের জন্যে। কারণ এই শারীরিক সক্ষমতা বা ফিটনেস মানুষের মনের উপর ও প্রভাব ফেলে থাকে। 


যদিও আমরা শারীরিক সক্ষমতার উপাদান কাকে বলে এই নিয়ে কথা শুরু করেছিলাম। কিন্তু এখন শরীরিক সক্ষমতার উপাদান ছাড়াও আরো কি কি উপায়ে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা যায় সেটা আমরা বলার চেষ্টা করবো। 


শরীরিক সক্ষমতা বা ফিটনেস ধরে রাখার জন্যে নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি বলা চলে। এই শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখার জন্যে কিছু নিয়ম মেনে চলা দরকার। যেমন প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করলে আপনার শরীরিক সক্ষমতা বা ফিটনেস ধরে রাখা সম্ভব অনায়াসে। 


আবার এর সাথে প্রতিদিন হাঁটাচলা, দৌঁড়ানো ও সাঁতার কাটা কিন্তু শারীরিক সক্ষমতা বা ফিটনেস ধরে রাখার জন্যে বেশি ভূমিকা পালন করে থাকে। 


খাদ্যাভ্যাস নিয়ম মেনে চলা ও খুব জরুরি প্রয়োজন। কারণ খাদ্য মানুষের শরীরের ক্যালোরি ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে থাকে। তাছাড়াও ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন আরো ভিবিন্ন উপাদান শারীরিক সক্ষমতা রক্ষা করে। তার সাথে পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করা ও খুব দরকার। 


তারপর বলা বাহুল্য যে বিশ্রাম।  নিয়ম মেনে শারীরিক সক্ষমতার জন্যে পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম এবং বিশ্রাম নেওয়া দরকার। আমরা সবাই জানি যে, বিশ্রাম কাজের অঙ্গ একসাথে গাঁথা, নয়নের অংশ যেন নয়নের পাতা। 

শারীরিক ফিটনেস বা শারীরিক সক্ষমতা এর উপকারিতা


শারীরিক সক্ষমতার উপাদান কাকে বলে এই নিয়ে আমরা ধীরে ধীরে অনেকদূর চলে এসেছি। এবার শারীরিক ফিটনেস বা শারীরিক সক্ষমতার উপকারিতা নিয়ে আমরা কথা আলোচনা করার চেষ্টা করবো। 


তবে এই কথা মনে রাখা জরুরি যে শুধু শারীরিক ফিটনেস মানে বা শারীরিক সক্ষমতা মানে মেদ কমানোকে বলেনা। শারীরিক ফিটনেস মানে হলো শরীর ও মন উভয়ের সমন্বয়ে সুস্থ থাকা। তাই শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখতে হলে সঠিক নিয়মে খাদ্যাভ্যাসের চর্চা করা এর সাথে সঠিক সময়ে ব্যায়াম করা। 


এই পদ্বতির মাধ্যমে নিজের শারীরিক ফিটনেস বা শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব। এবার জানবো শারীরিক ফিটনেস বা শারীরিক সক্ষমতার উপকারিতা সম্পর্কে। আসুন তাহলে জেনে নিই এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা:  


  • শারীরিক ফিটনেস বা শারীরিক সক্ষমতার উপকারিতার মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত ব্যায়াম করলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে এবং হার্টের শক্তি বৃদ্ধি করে।
  • স্বাভাবিক ভাবে শারীরিক ফিটনেস সঠিক ভাবে বজায় রাখলে ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকে যা অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সহায়তা করে। 
  • শারীরিক ফিটনেস ব্যায়ামের মাধ্যমে ঠিক রাখলে মেজাজ ভালো থাকে এবং মানসিক অবসাদ দূর হয়ে যায়। 
  • শারীরিক ফিটনেস বা শারীরিক সক্ষমতার সঠিক ভাবে বজায় রাখলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি হয় করে এবং ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে তুলে এক্ষেত্রে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। 
  • নিয়মিত ভাবে শারীরিক সক্ষমতার ফিটনেসের কাজ করলে অনিদ্রা দূর হয়ে যায় এবং ঘুমের মান উন্নত করে তুলে। 
  • শরীরিক ফিটনেসের মাধ্যমে শরীরের শক্তি বাড়ে এবং দৈনন্দিন কাজে সহজেই এনার্জি পাওয়া যায়।  
  • শারীরিক ফিটনেস বা শারীরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে ব্যায়াম করলে হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে ও পেশিকে শক্তিশালী করে তোলে। 
  • শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখলে বয়সের প্রভাব কমে যায় এবং বার্ধক্যের লক্ষণ অনেক পরে দেখা যায় অর্থাৎ দীর্ঘদিন পর্যন্ত আপনার সুন্দর্য ধারণ করতে পারেবন  এককথায় আপনাকে একদম বয়স হলেও তরুন দেখা যাবে। 
  • শরীরিক ফিটনেস বা সক্ষমতা আপনাকে আত্মবিশ্বাসী হতে সহায়তা করে। 

শারীরিক ফিটনেস সক্ষমতা বজায় রাখতে করণীয়


শারীরিক ফিটনেস বা সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখা দরকার। আমরা বিশেষ করে বাঙালিরা খুবই অলস প্রকৃতির। তাই আমাদের জন্যে শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখার ক্ষেত্রে কিছু করণীয়তা রয়েছে। 


এক্ষেত্রে আমরা শারীরিক সক্ষমতার উপাদান কাকে বলে এবং শারীরিক সক্ষমতা বলতে কি বুঝ এছাড়াও কিভাবে শারীরিক সক্ষমতা বা ফিটনেস ধরে রাখা যায় এই নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছি। এবার শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখার করণীয় সম্পর্কে জেনে আসি। 


এই শারীরিক ফিটনেস আমাদের নিত্যদিনের জীবনে সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে সহযোগিতা করে। শারীরিক ফিটনেস মানে শুধু বাইরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, পরন্তু দেহের ভেতরের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি করে। ফিটনেস সঠিকভাবে বজায় রাখা তেমন বেশি কঠিন নয়, কিন্তু নিয়মিত চেষ্টা ও সচেতনতা প্রয়োজন। আসুন জেনে নেই শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখার কিছু কার্যকর পদ্ধতি:  


  • নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। মাইন্টকে সেট করুন প্রতিদিনের কাজ  ব্যায়াম করা কে। 
  • সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন যেমন শাকসবজি, ফলমূল এবং প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট।   বেশি তৈলাক্ত খাবার পরিত্যাগ করুন। 
  • মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন বা দূর করুন এবং সাথে নিয়মিত মেডিটেশন করার চেষ্টা করুন। 
  • পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমের নিশ্চিত করুন। 
  • পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করুন। 
  • সর্বপ্রকার নেশা জাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকুন। 

শারীরিক সক্ষমতার উপাদান কাকে বলে এই নিয়ে লেখকের শেষ কথা


শারীরিক সক্ষমতার উপাদান কাকে বলে এই নিয়ে আমরা অনেক দিক দিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি এই নিয়ে তেমন মনে আর প্রশ্ন থাকার কথা না। তবে শেষ কথা হলো নিজেকে সুস্থ রাখুন নিজেকে ভালোবাসুন দেখবেন আপনার জীবনের আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন। শুধু শরীরিক সক্ষমতা নই মানসিক ভাবে আপনি সক্ষম হয়ে পড়বেন আমাদের উপরোক্ত আলোচনা গুলি যদি সঠিকভাবে পালন করে থাকেন ।  

ফল খাওয়ার উপকারিতা এবং প্রতিদিনের খাদ্য তালিকার কথা

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪